বিজয়ের আলো
প্রকাশ : Jul 11, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

ত্রাণ নয়, বাঁচতে চাই স্থায়ী নদী প্রতিরক্ষা বাঁধ; ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে রৌমারীতে গৃহহীন ১৭০ পরিবার

আব্দুল খালেক, রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র নদের তীব্র ভাঙনে অন্তত ১৭০টি পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। সুখেরবাতী, ঘুঘুমারী, সোনাপুর, চর গেন্দার আগলা ও খেদাইমারীসহ কয়েকটি গ্রামের ঘরবাড়ি, আবাদি জমি ও বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় অনেক পরিবার খোলা আকাশের নিচে, রাস্তার পাশে কিংবা অন্যের জমিতে অস্থায়ীভাবে আশ্রয় নিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের একটাই দাবি ত্রাণ নয়, স্থায়ী নদী প্রতিরক্ষা বাঁধ। সরেজমিনে দেখা যায়, ব্রহ্মপুত্রের অব্যাহত ভাঙনের আতঙ্কে অনেক পরিবার নিজেদের ঘরবাড়ি খুলে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে অধিকাংশেরই স্থায়ীভাবে বসবাসের মতো কোনো নিরাপদ জায়গা নেই। সুখেরবাতী গ্রামের বাসিন্দা বানেছা খাতুন বলেন, নদী তাদের বাড়ির একেবারে কাছে চলে এসেছে। ঘর সরিয়ে নিলেও স্থায়ীভাবে থাকার মতো কোনো জায়গা নেই। ঘুঘুমারী এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা জয়নাল, আফসার ও আব্দুল কাদের জানান, কয়েক বছর আগেও তাদের বসতভিটা বর্তমান নদীর তীর থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে ছিল। দীর্ঘদিনের ভাঙনের কারণে তারা ১০ থেকে ১২ বার ঘরবাড়ি স্থানান্তর করতে বাধ্য হয়েছেন। বারবার সর্বস্ব হারিয়ে এখন তারা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতি বছর নদীভাঙন শুরু হলে পানি উন্নয়ন বোর্ড জরুরি ব্যবস্থা হিসেবে কিছু জিও ব্যাগ ফেললেও তা দীর্ঘমেয়াদে কোনো সুফল দেয় না। তাদের দাবি, স্থায়ী তীর সংরক্ষণ প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিবর্তে প্রতিবছর অস্থায়ী কাজের মাধ্যমে সরকারি অর্থ ব্যয় করা হলেও ভাঙন রোধে কার্যকর কোনো ফল মিলছে না। চর শৌলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম সাইদুর রহমান দুলাল বলেন, স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ না নিয়ে প্রতি বছর অস্থায়ীভাবে বালুভর্তি বস্তা ফেলার জন্য বিপুল অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে। পরিকল্পিত স্থায়ী প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে এত পরিবারকে গৃহহীন হতে হতো না। রৌমারী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. শামসুদ্দিন জানান, ইতোমধ্যে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত চারটি পরিবারকে ঢেউটিন ও নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। বাকি ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে। তালিকা পাওয়ার পর পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে। এদিকে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রকিবুল হাসান বলেন, ভাঙনকবলিত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি তীর সংরক্ষণ প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দাবি, সাময়িক ত্রাণ নয়; তাদের জীবন, ঘরবাড়ি ও কৃষিজমি রক্ষায় দ্রুত স্থায়ী নদী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন। তাদের ভাষায়, "আমরা ত্রাণ চাই না, এমন একটি বাঁধ চাই যাতে প্রতিবছর ভিটেমাটি হারিয়ে নতুন করে জীবন শুরু করতে না হয়।"

 

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের ভিডিও করায় সাংবাদিকের ফোন কেড়ে নিল ঘাট

1

রৌমারীতে ১৬ ডিসেম্বর ৫৫তম মহান বিজয় দিবস পালিত

2

নিজেদের আঙিনা পরিষ্কার রাখলে দেশও পরিষ্কার থাকবে

3

জামালপুর সীমান্তে ৩৫ বিজিবির অভিযানে ৭১ বোতল ভারতীয় মদ জব্দ

4

সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিতের আহ্বান ডিআরইউয়ের

5

ভারতের সঙ্গে কথা হবে চোখে চোখ রেখে

6

বিশ্বকাপ নিয়ে রিভালদোর সঙ্গে তর্কে জড়ালেন নেইমার

7

বর্তমান সরকারের প্রধান দায়িত্ব শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে এনে বিচার

8

রৌমারীতে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে ইউপি সদস্

9

বন্দবেড় ইউনিয়ন বাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন সম্ভাব্য চেয়া

10

রৌমারীতে বন্ধক জমি নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, আহত ২; ৯৫০ কলাগাছ

11

রৌমারীতে ৩ দিনব্যাপী ভূমি সেবা মেলার শুভ উদ্বোধন

12

হতদরিদ্রদের মাঝে কাপড় বিতরণ করলেন আমেরিকা প্রবাসী শেখ জিল্লু

13

২৮ কুড়িগ্রাম-৪ আসনে বিএনপি প্রার্থীর সাংবাদিকদের সাথে মতবিনি

14

বৃহত্তর খুলনার প্রথম উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারি ব্রজলাল কল

15

মুক্তমত প্রকাশ–সংক্রান্ত ও গায়েবি মামলা ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্

16

রৌমারীতে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হলো ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস

17

রৌমারীতে অসহায় পালন খাতুনকে টিউবওয়েল উপহার দিলেন মহিলা দলের

18

রৌমারীতে মরহুম খোদাবক্স সরকার স্মৃতি ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ১

19

চর শৌলমারী ইউনিয়নে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে আন্ত গ্রামীণমেলা উদযা

20