আব্দুল
খালেক, রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
“গ্রামীণ
অর্থনীতি সচল ও পুষ্টির চাহিদা পূরণ”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কুড়িগ্রামের
রৌমারী এলাকায় ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্স (দাবি+) কর্মসূচির উদ্যোগে গ্রামীণ
নারীদের স্বাবলম্বী করতে বিশেষ প্রশিক্ষণ ও উন্নত জাতের মুরগির বাচ্চা বিতরণ করা
হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকাল ১০টায় রৌমারী ব্র্যাক এরিয়া
অফিসে সুশৃঙ্খলভাবে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক
উন্নয়ন ও পুষ্টির চাহিদা পূরণে ব্র্যাকের এ উদ্যোগ স্থানীয় মহলে প্রশংসিত হয়েছে। অনুষ্ঠানের শুরুতে গ্রামীণ নারীদের হাঁস-মুরগি পালনে
দক্ষ করে তুলতে একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। প্রশিক্ষণটি পরিচালনা
করেন রৌমারী ব্র্যাকের এরিয়া ম্যানেজার আজহারুল ইসলাম। প্রধান অতিথি হিসেবে
উপস্থিত ছিলেন রৌমারী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) রুবেল হোসাইন। প্রশিক্ষণে আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মুরগি পালন,
রোগবালাই প্রতিরোধ এবং সঠিক পরিচর্যার বিভিন্ন কৌশল সহজ ভাষায় তুলে ধরা হয়।
পাশাপাশি গ্রামীণ নারীদের পুষ্টির মান উন্নয়ন, পারিবারিক
অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জন এবং টেকসই সামাজিক উন্নয়নে ব্র্যাকের বিভিন্ন
কার্যক্রম সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করা হয়। বক্তারা বলেন, নারীরা ঘরে
বসেই ক্ষুদ্র পরিসরে হাঁস-মুরগি পালন করে পরিবারের পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি
অতিরিক্ত আয় করতে পারেন, যা তাদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রশিক্ষণ শেষে নির্বাচিত ২০ জন নারী সদস্যের মাঝে
সম্পূর্ণ বিনামূল্যে উন্নত জাতের মোট ৪০০টি মুরগির বাচ্চা বিতরণ করা হয়। বিতরণের
আগে প্রতিটি বাচ্চার স্বাস্থ্যগত অবস্থা পরীক্ষা করা হয় বলে আয়োজকরা জানান। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাকের এসইএলপি
কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান রহমান, রৌমারী শাখা ব্যবস্থাপক হযরত আলী, দাঁতভাঙ্গা
শাখা ব্যবস্থাপক আমিনুল ইসলাম, সহকারী শাখা ব্যবস্থাপক মনিরুল রহমান, কর্তিমারী
শাখা ব্যবস্থাপক রতন চন্দ্র সরকার এবং শিবেরডাঙ্গী শাখা ব্যবস্থাপক রুমি আক্তারসহ
অন্যান্য কর্মকর্তারা। অনুষ্ঠান
শেষে ব্র্যাকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, প্রান্তিক
জনগোষ্ঠীর মাঝে স্বকর্মসংস্থান সৃষ্টি, গ্রামীণ নারীদের ক্ষমতায়ন এবং পুষ্টির চাহিদা
পূরণে ব্র্যাক দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক
কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। উপকারভোগী
ছকিনা খাতুন (৫০) বলেন, “ব্র্যাক থেকে বিনামূল্যে উন্নত জাতের মুরগি পেয়ে আমি
খুবই আনন্দিত।” জামানে
খাতুন (৪৫) বলেন, “ব্র্যাকের এ কার্যক্রমে কোনো ধরনের টাকা বা ঘুষ দিতে
হয়নি। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে মুরগি পেয়েছি।” মালেকা
খাতুন (৫২) বলেন, “ব্র্যাকের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মুরগি পালনের সঠিক পদ্ধতি
শিখেছি। বিনামূল্যে উন্নত জাতের মুরগি পেয়ে আমি খুব খুশি।”